কানাইঘাটে আওয়ামীলীগের বিস্ফোরক মামলার আসামিদের অবাধে চলাফেরা
২৬ আগ ২০২৫, ০৪:২৫ অপরাহ্ণ

সিলেট নিউজ রিপোর্ট: সিলেটের কানাইঘাটে অর্ধশতাধিক আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে আসামিরা নির্দ্বিধায় এলাকায় অবাধে চলাফেরা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে সিআর মামলা নং-৪৫৩/২০২৪, তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ইং, আমলী আদালত নং-০৫, সিলেটে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। মামলাটি পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩০৭/৩২৫/৩২৬/৩৪/৪২৭ ধারাসহ বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইন ১৯০৮ এর ৩/৪ ধারায় দায়ের করা হয়।
মামলার অভিযোগকারী হলেন, কানাইঘাট পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোঃ জাকারিয়া হাবিব। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের ১৩ জুন দুপুর ১টার দিকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তেল-গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কানাইঘাট পূর্ব বাজার থেকে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এসময় কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী লাঠিসোটা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে মিছিলে হামলা চালায়। তারা ইটপাটকেল ও বোমা নিক্ষেপ করলে অভিযোগকারীসহ অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন। এক পর্যায়ে অস্ত্রসজ্জিত অবস্থায় তারা বিএনপির নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে। একইদিন বিকাল ৩টার দিকে আসামিরা পুনরায় কানাইঘাট বাজারে এসে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় বাদী আদালতে মামলা দায়ের করলে ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিজ্ঞ আদালত তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, জেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক মোস্তাক আহমদ পলাশ, কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম হারুন, আ’লীগ নেতা আফছর উদ্দিন চেয়ারম্যান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হেকিম শামীম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আল মিজান, সহ সভাপতি জামাল উদ্দিন, পৌরসভা সভাপতি কেএইচ আব্দুল্লাহ, উপজেলা আ’লীগ নেতা মামুন আহমদ, পৌরসভা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক খাজা শাহীন আহমদ, উপজেলা শ্রমিকলীগ সভাপতি জসিম উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মারুফ আহমদ, আ’লীগ নেতা নাজির উদ্দিন প্রধান, উপজেলা যুবলীগ নেতা বিল্লাল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদ জিবান, আ’লীগ নেতা ইকবাল আহমদ, যুবলীগ নেতা আফজাল হোসেন মিজান, উপজেলা আ’লীগের অর্থ সম্পাদক তমিজ উদ্দিন (মতই), আ’লীগ নেতা কামাল উদ্দিন (কামাল হাজি), যুবলীগ নেতা নাজিম উদ্দিন (নাজিম লিডার), আ’লীগ নেতা আলমাছ উদ্দিন, কয়ছর মেম্বার, যুবলীগ নেতা আজির উদ্দিন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রিংকু চক্রবর্তী, উপজেলা আ’লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক সেলিম চৌধুরী, ২নং ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি তোতা মিয়া, উপজেলা যুবলীগ নেতা জসিম উদ্দিন মেজর, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কাহার আলী, ৫নং ইউপি সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া আলম জামেল, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মারওয়ানুল করিম, ২নং ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম (ফেড়াই), আ’লীগের নেতা আজমল ট্রেডার্স, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মাহবুব আলম, ছাত্রলীগ নেতা আলীম উদ্দিন, ছাত্রলীগ নেতা খালেদ আহমদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি জাকারিয়া আহমদ (সুমন), ছাত্রলীগ নেতা আবুল হোসেন (শাওন), যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম বেলাল, ৫নং ইউপি আ’লীগের সহ সভাপতি ফারুক আহমদ (পাখী), সহ সভাপতি আব্দুল মুতলীব, সাধারণ সম্পাদক আজির উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাক মাসুক আহমদ, ৫নং ইউপি আ’লীগের সভাপতি মুবাশ্বির আলী, আ’লীগ নেতা মীর আব্দুল্লাহ, উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আম্বিয়া, উপজেলা আ’লীগ নেতা ওয়ারিছ উদ্দিন, যুবলীগ নেতা নাহিদুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা আবুল হাসান (মুন্না) সহ অর্ধশতাধিক নেতা।
ঘটনার পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং বাদী ও আহতদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামিদের পক্ষ থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন রয়েছে।